meghnapost
- ৩০ জুলাই, ২০২৬ / ৬১ বার পঠিত
চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার আয়নাতলী এলাকায় জনতার হাতে আটক এক কথিত মাদক কারবারির মোবাইল ফোনে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে কথোপকথন, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ও ভয়েস ক্লিপ পাওয়া গেছে—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা আয়নাতলী এলাকার মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে, যিনি এলাকায় মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত বলে দাবি করা হয়, আটক করে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যান। সেখানে উপস্থিত লোকজন তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে কথোপকথন ও অর্থ লেনদেনসংক্রান্ত বিভিন্ন চ্যাট এবং ভয়েস ক্লিপ দেখতে পান বলে অভিযোগ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভবিষ্যতে আর মাদক ব্যবসায় জড়াবেন না—এমন মুচলেকা ও ক্ষমা প্রার্থনার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয়ভাবে ধারণ করা ভিডিওতে উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফ হোসেন, এসআই মিঠু দাস, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সহিদুল্লাহ, এএসআই এরশাদ মিয়া, এসআই রফিকুল ইসলাম এবং পুলিশ সদস্য শরিফুল ইসলামের নামে সংরক্ষিত নম্বরের সঙ্গে কথোপকথন, চ্যাট ও ভয়েস ক্লিপ দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। কয়েকটি ভয়েস ক্লিপে অর্থ লেনদেনের বিষয়ও উঠে এসেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আটকের পর মিজানুর রহমান স্থানীয়দের কাছে দাবি করেন, মাদক ব্যবসা পরিচালনার জন্য তিনি নিয়মিত কয়েকজনকে মাসোহারা দিতেন এবং তার ৪১ জন নিয়মিত ক্রেতা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মিজানুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এর আগে তিনি একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও তারা জানান।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ফেসবুকে এক ব্যক্তি শাহরাস্তি থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাদকবিরোধী অভিযানে অনিয়মের অভিযোগ তুলে পোস্ট করেন।
এলাকাবাসীর পক্ষে সালেহ আহমেদ বলেন, “আমরা সবার সামনে যা দেখেছি, তা উদ্বেগজনক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেই যদি এমন অভিযোগ ওঠে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? আমরা নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।”
ইউপি চেয়ারম্যান জোবায়েদ কবির বাহাদুর বলেন, “এর আগেও তাকে আটক করে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। সতর্ক করার পরও সে আবারও মাদক ব্যবসায় জড়িয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।”
এ বিষয়ে শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, “যেসব পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে আমি অবগত নই। কোনো পুলিশ সদস্যের মাদক কারবারির সঙ্গে সম্পর্ক থাকা উচিত নয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় এলাকাবাসী অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।